পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
এটি দেশের কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর।
ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিরা।
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন নতুন এক অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে পাবনার রূপপুর প্রকল্পটির এক নম্বর ইউনিট নির্মাণযজ্ঞের বহু ধাপ অতিক্রম করে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। বিকেলে রিঅ্যাক্টর বা পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। জ্বালানি লোডিংসহ পরীক্ষামূলক ধাপগুলো শেষে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট পূর্ণভাবে উৎপাদনে যেতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ১৫ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর দুই মাসের মধ্যে এটি ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা যাবে। আর ডিসেম্বরের শেষ বা ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রথম ইউনিট চালুর পর দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিটও উৎপাদন পর্যায়ে আনার কাজ এগোবে। সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, দুই ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে, যা ২ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষে এতে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রুশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-এর প্রধান রাফায়েল ম্যারিয়ানো গ্রসি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।












